অর্থ কিভাবে দ্রব্য বিনিময় প্রথার অসুবিধা দূর করেছে?

অর্থ কিভাবে দ্রব্য বিনিময় প্রথার অসুবিধা দূর করেছে?

সাধারণত দ্রব্যের পরিবর্তে দ্রব্য বিনিময়কে দ্রব্য বিনিময় প্রথা বলা হয়। দ্রব্য বিনিময় প্রথায় মানুষের নানাবিধ অসুবিধা হতো। অর্থ প্রচলনের মাধ্যমে দ্রব্য বিণিময় প্রথার সকল অসুবিধা দূরীভূত হয়েছে। অর্থ দ্রব্য বিনিময় প্রথার অসুবিধাসমূহ দূর করেছে।

১. অভাবের সামঞ্জস্যতা: অর্থ প্রচলনের ফলে পারস্পরিক অভাবের মধ্যে সামঞ্জস্যতার প্রয়োজন হয় না। কোন ব্যাক্তি তার উদ্বৃত দ্রব্য বিক্রয় করে ঐ অর্থ দ্বারা প্রয়োজনীয় দ্রব্য টি ক্রয় করতে পারে। পারস্পরিক অভাবের অসংগতির কারণে এখন আর কারও অভাব অতৃপ্ত থাকে না ।

২. অর্থ মূল্যের পরিমাপক:  অর্থ প্রচলনের ফলে এটি মূল্যের একটি সাধারণ পরিমাপক হিসাবে গৃহীত হয়েছে ।এখণ সকল দ্রব্যের মূল্য অর্থের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। অভাবের বিনিময়ের হারের অনিশ্চয়তা দূর হয়।

৩. অর্থের বিভাজ্যতা: দ্রব্য বিনিময় ব্যাবস্থায় অনেক দ্রব্যের অবিভাজ্যতার জন্য বিনিময়ে যথেষ্ট অসুবিধা হত।অর্থ প্রচলনের মাধ্যমে সেই অসুবিধার অবসন ঘটেছে।এখন অর্থকে প্রয়োজন মত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করা যেতে পারে । ফলে লেনদেনে ক্ষেত্রে অবিভাজ্যতার আর কোন সমস্যা নেই।

৪. সঞ্চয়ের বাহন: অর্থ প্রচলনের ফলে সঞ্চয়ও যথেষ্ট সহজ ও নিরাপদ হয়েছে। দ্রব্য বিনিময় ক্ষেত্রে উদ্বৃত্ত আয় সঞ্চয় করে রাখা যথেষ্ট অসুবিধা ছিল । অর্থ প্রচলনের সঙ্গে সঙ্গে সেই অসুবিধা দূর হয়েছে। এখন মানুষ অতি সহজ ও নিরাপদে তাদের উদ্বৃত্ত আয় অর্থের মাধ্যমে সঞ্চয় করতে পারে ।

৫. ঋণ আদান-প্রদান: দ্রব্য বিনিময় ব্যাবস্থায় ঋণ গ্রহন ও পরিশোধের ক্ষেত্রে যে অসুবিধা সৃষ্টি হতো অর্থ প্রচলনের দ্বারা সেই অসুবিধার অবসান ঘটেছে। দ্রব্যের মাধ্যমে ঋণ গ্রহন ও পরিশোধ করা হলে দাতা ও গ্রাহীতা যে কেউ ক্ষতিগ্রস্থ সম্ভবনা ছিল। অর্থের মাধ্যমে তা দূর হয়েছে । অর্থের মাধমে ঋণ গ্রহণ যেমন সহজ, ঋণ পরিশোধ করাও সহজ।

৬. বহনযো্গ্যতা: দ্রব্য বিনিময় ব্যাবস্থায় সবচেয়ে বড় অসুবিধা ছিল। দ্রব্য সামগ্রী একস্থান হতে অন্যস্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো না। অর্থের প্রচলনের সঙ্গে সঙ্গে অসুবিধা দূর হয়েছে। দ্রব্য সামগ্রী বহন করে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই । অর্থ দ্বারা প্রয়োজন মতো সামগ্রী ক্রয় করা যায় ।

৭. মূল্য স্থানান্তর: দ্রব্য বিনিময় ব্যবস্থায় মূল্যের স্থানান্তরের অসুবিধা হতো । মানুষের পক্ষে তার সম্পদ এক স্থান হতে অন্য স্থানে স্থানান্তর করা সম্ভব হতো না । অর্থের প্রচলনের ফলে এ অসুবিধা দূর হয়েছে । মানুষ তার সম্পদের বিক্রয় মূল্য একস্থান হতে অন্যস্থানে স্থানান্তর করে নিয়ে যেতে পারে এবং সেখানে সম্পদ ক্রয় করতে পারে।

৮. আপেক্ষিক নির্ধারণ: দ্রব্য বিনিময় ব্যবস্থায় বিভিন্ন দ্রব্যের আপেক্ষিক মূল্য নির্ধারণের যে অসুবিধা ছিল তা অর্থের প্রচলনের সাথে সাথে তা দূর হয়েছে। যেমন ১টি মুরগির মূল্য ২০০ টাকা এবং একটি ছাগলের মূল্য ২০০০ টাকা এবং উভয়ের অনুপাত ১:১০.

পরিশেষে বলাকযায়, দ্রব্য বিনিময় ব্যাবস্থায় সৃষ্ট অসুবিধাগুলো অর্থ প্রচলনের ফলে দূরিভূত হয়েছে এবং বিনিময় ব্যবস্থা সহজ ও নিরাপদ হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।