মুদ্রা ভিত্তিক অর্থনীতির বৈশিষ্ট কি? অর্থনীতিতে মুদ্রার অবদান আলোচনা

মুদ্রা ভিত্তিক অর্থনীতির বৈশিষ্ট কি?

আদিম সমাজের অর্থনীতি গড়ে উঠেছিল দ্রব্য বিনিময় প্রথার মাধ্যমে। ঢোলের পরিক্রমায় সেই ব্যাবস্থার পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে আজকের আধুনিক সমাজ ব্যবস্থার অর্থনীতি দাড়িয়ে আছে মুদ্রা বা অর্থের উপর । তাই আমরা এক কথায় বলতে পারি দ্রব্য বিনিময় প্রথার বিপরিত ব্যাবস্থা হলো মুদ্রাভিত্তিক অর্থনীতি । আর আমরা যদি ব্যাপক অর্থে বিবেচনা করি, তাহলে মুদ্রা ভিত্তিক অর্থনীতি বলতে-  সেই অর্থনীতিকে বুঝায় যেখানে ব্যাবসা, বাণিজ্য, লেনদেন মাধ্যম হিসাবে মুদ্রা , কাগজি মুদ্রা এবং ব্যাংক আমানত ইত্যাদি ব্যাপক ব্যবহৃত হতে হয়।”  

নিচে এই মুদ্রা ভিত্তিক অর্থনীতির প্রধান প্রধান বৈশিষ্টগুলো বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হলোঃ

. লেনদেন ব্যাবসা বাণিজ্যের প্রসারঃ অধনিক যুগে লেনদেন ও ব্যাবসা বাণিজ্যের উন্নয়নে অর্থ বা মূদ্রা গুরুত্বপূর্র্ণ ভূমিকা রেখেছে, তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই। আজকের অর্থনীতিতে বড় বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ব্যাবস্থা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো লেনদেন ও ব্যাবসা বাণিজ্যের উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখেছে বলা যায়। এক্ষেত্রে ব্যাংক ব্যাবস্থার মাধ্যমে ব্যাবসা বণিজ্যের ঋণের সম্প্রসারণ দ্রুত ঘটিয়ে বিনিয়োগ এবং তার মাধ্যেমে জাতীয় আয় এ মুদ্রার ব্যাপক চলাচল লক্ষ করা যায়।

২.দ্রব্য বিনিময়ের সমস্যা সমাধানঃ অর্থের প্রচলন পূর্বে আর্থনীতি দ্রব্য বিনিময় প্রথার উপর দারিয়ে ছিল । যার ফলে অর্থনীতি ছিল স্থিরকারণ দ্রব্য বিনিময় ব্যাবস্থার লেনদেন সমস্যার শেষ ছিলো না । মুদ্রা সেই অবস্থা থেকে অর্থনীতিকে মুক্তি দিয়েছে। যার ফলে অর্থনীতি আজ আধুনিক ব্যাবস্থার উপর দাড়িয়ে আছে । আজকের অর্থনীতিতে বিভিন্ন ধরণের মুদ্রার প্রচলন থাকায় অর্থনীতিতে অতি সহজে মানুষ দ্রব্য ও বিভিন্ন সেবা লেনদেনে করতে পারে । দ্রব্য বিনিময় প্রথায় মানুষের বিভিন্ন অভাবের মধ্যে যে অসংগতি  তৈরী হত তা আজ মূদ্রার মাধ্যমে সংগতি পূর্ণ হয়েছে । যার ফলে বহূ দ্রব্য ও সেবা লেনদেনের যে সমস্যা সৃষ্টি হত তা মুদ্রা অতি সহজে দূর করে দেয় । তাই আমরা বলতে পারি অধূনিক অর্থনীতিতে দ্রব্য  বিনময় প্রথার অবসনে মূদ্রা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

.ঋণ ব্যাবস্থার প্রসারণ মুদ্রাঃ অর্থনীতিতে ঋণের মাধ্যমে আয় তথা বিনিয়োগ সম্প্রসারণে মুদ্রা গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকপালন করে । এছাড়া মুদ্রা বিনিময় মাধ্যমসমূহ মূল্যের ভান্ডার ঋণ গ্রহন প্রদানের ক্ষেত্রে মুদ্রা গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করে।

.কাগজের নোটের প্রচলন মুদ্রা অর্থনীতিঃ আজকের অর্থনীতিতে দ্রব্যের লেনদেনে অর্থের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মুদ্রা ভিত্তিক অর্থনীতিতে দুই ধরণের মুদ্রার প্রচলন লক্ষ করা যায়। একটি হলো ধাতব মুদ্রা ও অন্যটি কাগজি মুদ্রা। ধাতব মুদ্রা কম মূল্য মানের হয় আর কাগজিমুদ্রা অধিক মূল্য মানের হয় এবং ধাতব মুদ্রার থেকে কাগজি মুদ্রা সহজে বহন যোগ্য হয়। তাই মুদ্রা ভিত্তিক অর্থনীতিতে ব্যাবসা বাণিজ্যের লেনদেন অধিক হারে কাগজি মুদ্রার ব্যবহার লক্ষ করা যায়।

৫.ব্যাংক চেক ও মুদ্রা আর্থনীতিঃ আধুনিক মুদ্রা ভিত্তিক অর্থনীতিতে আজ নগদ অর্থের পরিবর্তে ব্যাবসা বাণিজ্য ও লেনদেন ব্যাংক চেকের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার মূল কারণ হলো সহজ এবং নিরাপদে লেনদেনের জন্য বর্তমানে ব্যাংকের চাহিদা আমানত বিনিময়ের মাধ্যম হিসাবে ব্যাংক চেক ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই বলা যায় ব্যাংক চেক ভিত্তিক মুদ্রা অর্থনীতির উন্নয়নে একটি নতুন এবং সংযোজন বলা যায়।

.মূল্যস্তরে স্থিতিশীলতা মুদ্রা অর্থনীতিঃ মুদ্রা ভিত্তিক অর্থনীতিতে এখন ব্যাপক হারে মুদ্রাস্ফীতি লক্ষ করা যায় । অনেক সময় আবার মুদ্রা সংকোন ও পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু স্থিতিশীল মূল্যস্তরের প্রয়োজনে মুদ্রাস্ফিতি ও মুদ্রাসংকোন নিয়েন্ত্রন করা অতিব জরুরি । তাই দেশে মুদ্রা কতৃপক্ষের উচিত মূল্যস্তর স্থিতিশীল রাখার জন্য সুষ্ঠ মুদ্রানীতি প্রনয়ন করা । এতে করে মুদ্রাভিত্তিক অর্থনীতি স্থিতিশীল হবে।

. বিভিন্ন মুদ্রার প্রচলন মুদ্রা অর্থনীতিঃ মুদ্রা ভিত্তিক অর্থনীতিতে ব্যাবসা বাণিজ্যের প্রসার ও আর্থিক লেনদেন সহজতর করার প্রয়াসে বিভিন্ন ধরণে মুদ্রার সৃষ্ঠি হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখ্য বিহীত মুদ্রা, প্রায় মুদ্রা, শক্তিশালি মুদ্রা, ঐচ্ছিক মুদ্রা এবং ব্যাংক মুদ্রা ইত্যাদি। এই সব মুদ্রা মুদ্রা-অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে ।

.ব্যাংক ব্যাবস্থা মুদ্রা অর্থনীতিঃ মূদ্রা ভিত্তিক অর্থনীতির মধ্যমণী হলো ব্যাংক ব্যাবস্থা। কারণ ব্যবসা বাণিজ্য সহ সকল প্রকার লেনদেন ঋণ এমনকি আমদানি রপ্তানির মধ্যস্থতাকারী হিসাবে ব্যাংক ব্যবস্থা একছত্র অধিপতির ভূমিকা পালন করে। তাই আমরা বলতে পারি মুদ্রাঅর্থনীতিতে ব্যবস্থার গুরুত্ব আপরিশীম।

. সঞ্চয় বিনিয়োগ মুদ্রা অর্থনীতিঃ মুদ্রা ভিত্তিক অর্থনীতিতে ব্যাপক হারে সঞ্চয় প্রবণতা লক্ষ করা যায়, সেই কারণে বিনিয়োগ ও বৃদ্ধি পায়। যার ফলে জাতীয় আয় ও বৃদ্ধি পায়, যার মূল হিসাবে কাজ করে মুদ্রা বা অর্থ ।

উপরিক্ত আলোচনা পরিশেষে আমরা বলতে পারি আধুনিক অর্থনীতি মূলত দাড়িয়ে আছে মুদ্যার উপর ভিত্তিকরে। মুদ্রা না থাকলে অর্থনীতি এত দ্রুত এগিয়ে যেতে পারত না। তাই বলা যায় আধুনিক টেকসই আর্থনীতি বিনির্মানে মূদ্রা বা অর্থের ভূমিকা অপরিসীম।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।