অর্থের কার্যাবলি কি? আধুনিক অর্থনীতিতে অর্থের কার্যাবলি আলোচনা।

অর্থের কার্যাবলি কি? আধুনিক অর্থনীতিতে অর্থের কার্যাবলি আলোচনা।

আধুনিক অর্থনীতি একান্ত অর্থ নির্ভর । অর্থ বর্তমান অর্থব্যবস্থার একটি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে বিবেচ্য । অর্থ মানুষের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, ও সামাজিক জীবনে বহুবিধ কার্য সম্পাদন করে থাকে।

অর্থের কার্যাবলিঃ বিশিষ্ট অর্থ বিজ্ঞানী crowther অর্থের কার্যাবলি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে একটি স্মরণীয় কবিতাংশ রচনা করেন। যেমন –

Money is a matter of functions four

A medium, a measure, a standard, a store

অর্থাৎ, অর্থের কাজ হলো চার, মাধ্যম, পরিমাপক, মান ও ভান্ডার ।

নিম্নে অর্থের কার্যাবলি আলোচনা করা হল-

. বিনিময়ের মাধ্যমঃ অর্থের প্রাথমিক প্রধান কাজ হল বিনিময়ের মাধ্যম হিসাবে লেনদেন সম্পন্ন করা। অর্থই বিনিময়ের সর্বজনগ্রাহ্য মাধ্যম। দৈনন্দিন জীবনে সকলেই ক্রয় বিক্রয়ের মাধ্যম হিসাবে অর্থকে গ্রহন করে।

২. মূল্যের পরিমাপকঃ অর্থের দ্বিতীয় প্রধান কাজ হল মূল্য পরিমপক হিসাবে কাজ করা। বর্তমানে সকল প্রকার দ্রব্য ও সেবার মূল্য অর্থের মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়।

৩. স্থগিত লেনদেনের মানঃ অর্থ স্থগিত লেনদেনের মান হিসাবে ব্যবহৃত হয়। স্থগিত লেনদেন বলতে ভবিষ্যৎ দেনা-পাওনা নির্দেশ করে। কেউ যখন কাউকে কিছু ধার দেয় তখন এর হিসাব অর্থের মাধ্যমে রাখা হয়। কারণ, দ্রব্যের মূল্য দ্রুত পরিবর্তনশীল। কিন্তু অর্থের মূল্য বিশেষ পরিবর্তন হয় না।

. সঞ্চয়ের ভান্ডারঃ অর্থ সঞ্চয়ের ভান্ডার হিসাবে কাজ করে। বর্তমানে মানুষ তার উদ্বৃত্ব দ্রব্য বিক্রয় করে তার অর্থ মূল্য সঞ্চয় করতে পারে।

. মূল্য স্থানান্তরের বাহনঃ অনেক দ্রব্য সামগ্রি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সহজে ও নিরাপদে স্থানান্তর করা যায় না। কিন্তু অর্থ প্রচলনের ফলে অর্থের মাধ্যমে স্থাবর সম্পত্তি ক্রয় বিক্রয়ের মাধ্যমে সম্পত্তি স্থান্তর করা যায় ।

৬. ঋণের ভিত্তিঃ অর্থ ঋণের ভিত্তি হিসাবে কাজ করে। বর্তমানে ব্যাবসায়িক লেনদেনের আধিকাংশ বিভিন্ন ঋণ পত্র পরিশোধ অর্থের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়।

৭. তারল্যের মানঃ অর্থ সবচেয়ে তরল সম্পদ হিসাবে বিবেচিত হয়। অর্থ সকলের কাছে গ্রহনীয় এবং এর দ্বারা যে কোন দ্রব্য সামগ্রি যেকোন সময় ক্রয় করা যায়।

৮. বন্টনের কাজঃ অর্থ জাতীয় আয় বন্টনের কাজ করে থাকে। উৎপদনের উপকরণ গুলো পারিশ্রমিক অর্থের মাধ্যমে বন্টত হয়ে থাকে।

. সর্বাধিক তৃপ্তি লাভের উপায়ঃ ভোক্তা দ্রব্য ক্রয়ের মাধ্যমে সর্বাধিক তৃপ্তি পেতে চেষ্টা করে। অর্থ দ্বারা উপযো্গ পরিমাপ করা যায়। কাজেই অর্থ মানুষকে তার ক্রয়কৃত দ্রব্য সামগ্রি হতে সর্বাধিক তৃপ্তি পেতে সাহায্য করে থাকে।

১০. উৎপাদন ক্ষেত্রেঃ উৎপাদন ক্ষেত্রে অর্থের বিশেষ ভমিকা রয়েছে। অর্থের মাধ্যমে ভোক্তার চাহিদা ও উৎপাদনকারির যোগনের মধ্যে সামঞ্জস্য রক্ষিত হয়। এমূল্য পদ্ধতির মাধ্যমে উৎপাদন নিয়ন্ত্রন করা হয়। এভাবে অর্থের সাহায্যে উৎপাদন পরিচলিত হয়্।

১১. সামাজিক মর্যাদা নিশ্চয়তার প্রতিকঃ সমাজে মানুষের মর্যাদা ও নিরাপত্তা দ্রব্য সামগ্রি ও সম্পদের আর্থিক মূল্যমান দ্বারাই নির্ণীত হয়।

১২. সামাজিক সম্পর্ক রক্ষাঃ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান ও উৎসবের ক্ষে্ত্রে অর্থ দ্বারা উপহার ও উপঢৌকন প্রদান করে সামাজিক দায়-দ্বায়িত্ব পালন করা যায়।

১৩. মনস্তাত্বিক কার্যাবলিঃ আধুনিককালে অর্থ সামজিক মর্যাদার বাহন হিসাবে কাজ করে। নগদ অর্থ হাতে থাকলে মানুষ যেকোন বিপদ-আপদ মোকাবেলা করতে পারবে দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকবে। নগদ অর্থ মানুষের মনোবল বাড়ায় এবং উৎফুল্ল রাখে।

উপরিক্ত আলোচনার প্রেক্ষপটে বলা যায় আধুনিক জগতে অর্থ গুরুত্ব পূর্ণ কার্যাবলি পালন করে থাকে। অর্থ প্রচলনের ফলে সকল অসুবিধা দূর হয়েছে এবং বিনিময় ব্যাবস্থা সহজ ও উন্নত হয়েছে। অধ্যাপক মার্শাল যথার্থই বলেছেন অর্থ কে কেন্দ্র করেই আধুনিক জগৎ আবর্তিত হচ্ছে।” 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।