মাল্টিমিডিয়া কি? মাল্টিমিডিয়ার প্রযুক্তি ও বিপ্লব।

মাল্টিমিডিয়া কি? মাল্টিমিডিয়ার প্রযুক্তি ও বিপ্লব

মাল্টিমিডিয়া শব্দের অর্থ বহুমাধ্যম। সাধারণ কম্পিউটারের সাথে অতিরিক্ত কিছু হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার যুক্ত করে কম্পিউটারে কাজ করার পাশাপাশি ছবি দেখা, গান শোনা ও অন্যান্য কাজ করা যায়। একই যন্ত্র দিয়ে এরূপ বহুবিধ কাজ করা যায় বলে একে মাল্টিমিডিয়া বা বহুমাধ্যম বলা হয়। মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যম মানুষের ভাব প্রকাশের সব কয়টি মাধ্যম যেমনঃ- লেখা বা টেক্স, গ্রাফিক্স, অডিও বা শব্দ, ভিডিও বা চলমান ছবি এবং ইন্টারএ্যাকটিভ কম্পিউটিং ইত্যাদি মাধ্যমগুলোকে প্রকাশ করা যায়।

মাল্টিমিডিয়া প্রযুক্তি

প্রায় পাঁচশ বছর ধরে বই ছিল তথ্য সংরক্ষণ ও সংরক্ষিত তথ্যের প্রদর্শন ও বিনিময়ের প্রধান মাধ্যম ও উৎস। বিগত বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে আধুনিক কম্পিউটারের আগমনের মাধ্যমে সূচিত হয় তথ্য সংরক্ষণের এক বিপুল সম্ভাবনা। যদিও চল্লিশ, পঞ্চাশ ও ষাটের দশকগুলোতে কম্পিউটার প্রযুক্তিতে সাধিত হয় বিপুল উন্নয়ন, তবে কম্পিউটারে কার্যক্রম সীমিত থাকে তথ্যের দ্রূততর বিশ্লেষণ ও দাম কমানোর প্রতিযোগিতার মধ্যে। আর ব্যবহারকারীদের কার্যক্রমও ডেটা ব্যবস্থাপনা, ওয়ার্ড প্রসেসিং, জটিল কিছু গাণিতিক প্রক্রিয়া বিশ্লেষণের মধ্যে। এসব কাজের সবই ছিল টেক্সভিত্তিক। অর্থাৎ কী-বোর্ডের মাধ্যমে নির্ধারিত কমান্ড টাইপ করার পর বিশ্লেষিত তথ্যের শুধু লিখিত ফলাফল প্রদর্শিত হতো মনিটরে। পূর্ববর্তী কম্পিউটারগুলোতে এ ধরনের ফলাফল প্রদর্শনের বিষয়কে বলা হয় মনোমিডিয়া। ৮০’র দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত কম্পিউটারের প্রায় সকল কার্যক্রম ছিল মনোমিডিয়াভিত্তিক।

মাল্টিমিডিয়ার বিপ্লব

৮০’র দশকের গোড়াতে বিশ্ববাজারে পার্সোনাল কম্পিউটারের আগমন এ গোটা বিশ্বকেই নাড়িয়ে দেয়। সাধারণ মানুষ যারা কম্পিউটার যন্ত্রটিকে কতিপয় অতি বুদ্ধিমান মানব-মানবীর কাজের বস্তু হিসেবে ভেবে এসেছিল তারা কম্পিউটারকে ছুঁয়ে দেখল। প্রথম পার্সোনাল কম্পিউটার বাজারজাতকরণে আইবিএম সাফল্য দেখালেও এ্যাপলই প্রথম কম্পিউটারকে প্রায় শিশুতোষ খেলনায় পরিণত করার সাহস দেখাল। এ দশকের শেষের দিকে কম্পিউটার হয়ে উঠল জীবন্ত। কী-বোর্ডে অতি সতর্কতার সাথে খট খট শব্দ তুলে কম্পিউটারের মেমোরিতে পুরে দেওয়া নির্দেশাবলির ফলাফলস্বরূপ আগে যেখানে তথ্য পড়ে নেওয়া ছাড়া কিছুই করার থাকতো না, নব প্রযুক্তির কল্যাণে সেখানে কম্পিউটার তথ্যের উপস্থাপন করল নিখুঁত বর্ণ, শব্দ আর চলমান দৃশ্যের এক অভূতপূর্ব সংমিশ্রণ। এ নব প্রযুক্তির নামই মাল্টিমিডিয়া। গত শতাব্দীর শেষ একটি দশক অর্থাৎ নব্বইয়ের দশকের পুরোটা জুড়েই কম্পিউটার প্রযুক্তির সকল শাখায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। প্রসেসরের অপ্রতিরোধ্য গতি, নতুন নতুন সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের আগমন আর অপারেটিং সিস্টেমের চমৎকারিত্বে কম্পিউটারে শব্দ, বর্ণ, ভিডিও ইমেজ প্রসেসিংয়ের কাজকে করেছে আরও নিখুঁত ও সহজবোধ্য। আর এই মাল্টিমিডিয়ার ব্যবহার এখন শিশু-কিশোরদের বিনোদন থেকে নিয়ে উচ্চ শিক্ষা গবেষণা আর চলচ্চিত্র তৈরি পর্যন্ত বহুবিধ কর্মকান্ড বিস্তৃত। সংক্ষেপে বলা যায়, মাল্টিমিডিয়া হচ্ছে আধুনিক কম্পিউটারে তথ্য ও ফলাফল উপস্থাপন প্রক্রিয়ায় শব্দ, বর্ণ ও ভিডিও ইমেজের সমন্বিত ব্যবহারের প্রযুক্তিগত রূপ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।