বিভাগের আর্কাইভঃ দেশ

বাংলাদেশের শিল্পোন্নয়ন

বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর হলেও এদেশের শিল্পের গুরুত্বকে খাটো করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। বিশ্বের কোনো দেশই কেবল মাত্র কৃষির উপর নির্ভর করে চলতে পারে না। আধুনিককালের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূলে রয়েছে দ্রুত শিল্পোন্নয়ন। আমাদের দেশেও অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি বৃদ্ধি করে জনসাধারণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই শিল্পোন্নয়নের প্রতি মনোনিবেশ করতে হবে।

শিল্পায়নঃ শিল্প বিপ্লবের অনিবার্য্ ফলশ্রুতি হলো শিল্পায়ন। বিজ্ঞানভিত্তিক যান্ত্রিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বৃহৎ আকারের উৎপাদন পদ্ধতি প্রবর্তনের প্রক্রিয়াকেই শিল্পায়ন বলা হয়। শিল্পায়ন বলতে বস্তুত দুটি বিষয়কে বুঝানো হয়ে থাকে। যথা- উৎপাদন, যোগাযোগ ও যাতায়াতের ক্ষেত্রে সনাতন যন্ত্রপাতির পরিবর্তে আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রের ব্যবহার এবং উৎপাদন, যাতায়াত ও যোগাযোগের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মনুষ্য ও পশুশক্তির পরিবর্তে কয়লা, তেল প্রভৃতি শক্তিসম্পদের ব্যবহার নিশ্চিত করা। সুতরাং শিল্পায়ন হলো শিল্প-কারখানা স্থাপনের এমন এক চলমান প্রক্রিয়া যাতে উৎপাদন ব্যবস্থা বৈজ্ঞানিক ও উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন হয়, উৎপাদনের আকার ও মান বৃদ্ধি পায় এবং যার দ্বারা জাতীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতির দ্বার উন্মোচিত হয়।

আমাদের দেশে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের শিল্পই প্রতিষ্ঠিত। এ দুই ধরনের শিল্পের অবস্থা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, যেখানে সরকারি বা রাষ্ট্রীয় শিল্পগুলো ক্রমান্বয়ে লোকসান দিয়ে যাচ্ছে, সেখানে বেসরকারি বা বিরাষ্ট্রীয় শিল্পগুলোর লাভের পরিমাণ বেড়েই চলেছে।

বাংলাদেশের শিল্পখাত

একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে যেসব খাত উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে তন্মধ্যে শিল্পখাতের অবদান অপরিসীম। একটি দেশ দ্রুত দারিদ্র্যের কবল থেকে বেরিয়ে আসতে পারে শিল্পখাতের উন্নয়নের মাধ্যমে। শিল্পখাতের উন্নয়ন বলতে কোনো একক শিল্পের উন্নয়নেকে বুঝায় না; বরং সকল শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়নকে বুঝায়।

বাংলাদেশের শিল্পখাতঃ সাধারণত যে কর্মপ্রচেষ্টা ও প্রক্রিয়ার সাহায্যে মানুষ প্রকৃতি প্রদত্ত উপকরণের রূপান্তর করে মানুষের ব্যবহারোপযোগী করে তোলে তাকে শিল্প বলে। যেমন-বস্ত্র শিল্প। বস্ত্র শিল্পের অন্তর্ভুক্ত সকল কারখানার সমন্বয়ে বস্ত্র শিল্প গঠিত। যেমন-সুতার কলে সুতা, বস্ত্র কলে বস্ত্র, গার্মেন্টস কারখানায় তৈরি পোশাক ইত্যাদি তৈরি হয়। এগুলোর সমন্বয়ই হলো বস্ত্র শিল্প। বাংলাদেশে এ ধরনের পৃথক পৃথক বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেমন- পাট শিল্প, চিনি শিল্প, চামড়া শিল্প, রসায়ন শিল্প, ইস্পাত ও প্রকৌশল শিল্প, কাগজ শিল্প, সার শিল্প, সিমেন্ট শিল্প ইত্যাদি। বাংলাদেশের এসব শিল্পের সমষ্টিকেই বাংলাদেশের শিল্পখাত বলা হয়। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এদেশে শিল্পখাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বাংলাদেশের শিল্পের কাঠামোগত দিক অন্যান্য স্বল্পোন্নত দেশের মতো হলেও এদেশের শিল্পখাতের প্রবৃদ্ধির হার এবং জিডিপিতে অবদান কোনোটিই সন্তোষজনক নয়। তাছাড়া শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রে তেমন ব্যাপক অগ্রগতি হঠাৎ করে প্রত্যাশাও করা যায় না। সুতরাং বাংলাদেশের শিল্প কাঠামো মোটেই উন্নত নয়।